বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র-কে ঘিরে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া ‘মৃত্যুর গুজব’ গত কয়েক ঘন্টায় গোটা বিনোদন জগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট ও টুইট দাবি করেছিল যে, প্রবীণ অভিনেতা আর নেই। কিন্তু, এই গুজবের অবসান ঘটালেন তাঁর কন্যা ঈশা দেওল নিজেই।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন— “বাবা একদম ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। দয়া করে এসব মিথ্যা খবরে বিশ্বাস করবেন না।”
ধর্মেন্দ্রর ভুয়া মৃত্যুসংবাদে উদ্বেগ ছড়ালো বলিউডে
সোমবার সকালে হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে যে বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেউল প্রয়াত। কিছু ইউটিউব চ্যানেল ও টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট এই খবরটি শেয়ার করে “RIP Dharmendra” হ্যাশট্যাগ দিয়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ধর্মেন্দ্রর অসংখ্য অনুরাগী ও সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। বহুজন তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকেন, কেউ কেউ প্রার্থনাও শুরু করেন অভিনেতার আত্মার শান্তির জন্য।
কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দেখা যায়, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ঈশা দেওলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
ঈশা দেওল নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরি ও টুইটার পোস্টে লিখেছেন:
“আমার বাবা একদম ভালো আছেন। এই সমস্ত ভুয়া সংবাদে দয়া করে বিশ্বাস করবেন না। আমাদের পরিবারকে নিয়ে গুজব ছড়ানো বন্ধ করুন।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক থামান এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।
তিনি আরও বলেন,
“আমরা সকলেই জানি, বাবাকে নিয়ে মানুষের ভালোবাসা অপরিসীম। কিন্তু এভাবে মিথ্যা খবর ছড়ানো সম্পূর্ণ অমানবিক।”
ধর্মেন্দ্র এখন কোথায়, কেমন আছেন?
সূত্র অনুযায়ী, ৮৮ বছর বয়সী এই অভিনেতা বর্তমানে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা অঞ্চলে নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রতিদিন হালকা হাঁটা ও যোগব্যায়াম করেন।
ধর্মেন্দ্রর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মতে,
“তিনি খুবই হাসিখুশি মানুষ। সম্প্রতি তিনি নিজের পুরোনো ছবির কিছু দৃশ্য দেখে মজা করে বলেছিলেন, ‘এখনও আমি সেই গব্বর সিং-এর সামনে দাঁড়াতে পারব।’”
অর্থাৎ, গুজবের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ভুয়া খবরের উৎস কোথা থেকে শুরু হলো?
ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে ভুয়া খবর ছড়ানো একেবারেই নতুন কিছু নয়। তবে ধর্মেন্দ্রর মতো প্রবীণ অভিনেতাকে নিয়ে এমন মিথ্যা খবর ছড়ানো অনেকেই “অনৈতিক ও হৃদয়হীন” বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিদেশি বিনোদন ব্লগ প্রথমে এই ভুল তথ্যটি প্রকাশ করে, পরে সেটি হুবহু তুলে নেয় কয়েকটি ইউটিউব নিউজ চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।
কিন্তু বলিউড সাংবাদিক মহল জানায়,
“এটি ক্লিকবেইট কৌশল মাত্র। মৃত্যুর খবর দিয়ে মানুষকে আকর্ষণ করার ঘৃণ্য চেষ্টা।”
ধর্মেন্দ্রর দীর্ঘ কর্মজীবন ও ঐতিহ্য
বলিউডের “হি-ম্যান” নামে পরিচিত ধর্মেন্দ্রর জন্ম ১৯৩৫ সালে পঞ্জাবের লুধিয়ানায়। ১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
তাঁর জনপ্রিয় ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
শোলে (১৯৭৫)
-
চুপ কে চুপ কে (১৯৭৫)
-
সত্য কাম (১৯৬৯)
-
ধর্ম বীর (১৯৭৭)
-
আপনে (২০০৭)
তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন বলিউডের প্রায় প্রতিটি বড় অভিনেতা-অভিনেত্রী।
পরিবারের সমর্থন ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া
ঈশা দেওল ছাড়াও ধর্মেন্দ্রর অন্য সন্তান সানি দেওল ও ববি দেওল তাঁদের বাবার পাশে দাঁড়িয়ে গুজব খণ্ডন করেন। সানি দেওল এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমাদের বাবা খুবই শক্তিশালী মানুষ। এমন গুজবে আমরা একদমই বিচলিত হই না। যারা ভালোবাসেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।”
এছাড়া, হেমা মালিনীও সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
“ধর্মজি একদম ভালো আছেন। ঈশ্বরের আশীর্বাদে তিনি দীর্ঘায়ু হোন।”
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া — ভালোবাসা ও ক্ষোভ একসঙ্গে
ভক্তরা ধর্মেন্দ্রর সর্বশেষ ছবি “রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি”-তে তাঁর উপস্থিতি মনে করে বলেন,
“আমাদের হি-ম্যান এখনও ফিট ও ফাইন আছেন।”
তবে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অবিবেচক খবর ছড়ানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন,
“মানুষের জীবনের সঙ্গে এমন খেলোয়াড়ি করা বন্ধ করুন। শুধু ভিউ পেতে মিথ্যা খবর ছড়ানো অপরাধ।”
সোশ্যাল মিডিয়া ও গুজব সংস্কৃতির বিপদ
আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায়, একটি ভুয়া পোস্ট মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সংবাদ যাচাইয়ের গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“যে কোনো বড় খবর বিশ্বাস করার আগে, সেটি সরকারি সূত্র বা পরিবারের কাছ থেকে নিশ্চিত করা উচিত।”
উপসংহার: ভুয়া খবর নয়, মানবিকতা ছড়ান
ধর্মেন্দ্রর ভুয়া মৃত্যুসংবাদ আমাদের আবারও শেখাল— সত্য যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার করা বিপজ্জনক।
ঈশা দেওল যথাসময়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুধু বাবাকে নয়, লাখো ভক্তের মন শান্ত করেছেন।
আমরা আশা করি, ধর্মেন্দ্র দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় থাকবেন এবং ভারতীয় সিনেমাকে তাঁর উপস্থিতি দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করবেন।
